ব্যাংককে ৫১তম স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালিত

ব্যাংকক, ৩১ মার্চ ২০২২

বাংলাদেশ দূতাবাস, ব্যাংকক সাড়ম্বরে ও যথাযোগ্য মর্যাদায় ব্যাংককে ২৭ ও ২৯ মার্চ এবং পাতায়ায় ৩০শে মার্চ ৫১ তম স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন করেছে। এ আয়োজনে স্বাগতিক দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, অন্যান্য মন্ত্রণালয়, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিকদের ও প্রবাসি বাংলাদেশিরা অংশগ্রহণ করে।

গত ২৭ মার্চ ২০২২ তারিখে ব্যাংককে স্থানীয় একটি হোটেলে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে থাইল্যান্ডে বসবাসরত প্রবাসি বাংলাদেশি, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষায় অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী, বিভিন্ন বহুজাতিক সংস্থায় কর্মরত ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন।

এ ছাড়া, গত ২৯ মার্চ ২০২২ আয়োজিত কূটনৈতিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে Guest of Honour হিসেবে উপস্থিত ছিলেন থাইল্যান্ডের উপ পররাষ্ট্র মন্ত্রী Mr Vijavat Isarabhakdi। এছাড়া ব্যাংকক এ অবস্থিত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও কূটনৈতিকবৃন্দ, ব্যবসায়ীবৃন্দ, উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকবৃন্দ এবং সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।    

থাই নৌবাহিনীর বিশেষ বাদ্যদলের পরিবেশনায় উভয় দেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শুরু হয়। মান্যবর রাষ্ট্রদূত জনাব মোঃ আব্দুল হাই তাঁর বক্তব্যের শুরুতেই স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। তিনি আরো শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন জাতীয় চার নেতা, মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের। রাষ্ট্রদূত তাঁর বক্তব্যে ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন ভারত, তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নসহ বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও কূটনীতিবিদদের অবদান শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। তিনি বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরেন। এ ছাড়া তিনি বাংলাদেশ-থাইল্যান্ড দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন বলেন, ২০২২ সালে বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ডের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক আগামী দিনে নতুন উচ্চতায় যাবে। বাংলাদেশের বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়নের ক্ষেত্রে বিশেষত পদ্মা সেতু,

ঢাকা মেট্রো রেল, ঢাকা এক্সপ্রেসওয়ে-এর মত বৃহৎ প্রকল্পে থাইল্যান্ডের কারিগরি সহায়তার জন্য থাই সরকারকে ধন্যবাদ জানান। 

অনুষ্ঠানের Guest of Honour Mr Vijavat Isarabhakdi তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন এবং দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বাংলাদেশের ৫১ বছরের উন্নয়নের পথে যাত্রা এবং দেশ গঠনে জনগণ ও সরকারের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বহুপাক্ষিক ও আঞ্চলিক কূটনৈতিক পরিমন্ডলে বাংলাদেশের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সফল নেতৃত্বের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন।  তিনি বলেন, দ্বিপাক্ষিক পরিমন্ডল ও বিমসটেক-এর মত আঞ্চলিক পরিমন্ডলে বাংলাদেশ এবং থাইল্যান্ডের একসাথে কাজ করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে; এতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ঘনিষ্টতর হয়েছে। দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সূবর্ণজয়ন্তীতে এ সম্পর্ক আরো সুদৃঢ় হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

গত ৩০ মার্চ ২০২২ তারিখে পাতায়ায় আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ, ও প্রবাসি বাংলাদেশিগণ অংশগ্রহণ করেন। উক্ত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পাতায়া পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র Promuth Thafthin। অনুষ্ঠানে মান্যবর রাষ্ট্রদূত তাঁর বক্তব্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নেতৃত্বে উন্নয়নশীল বাংলাদেশের অগ্রগতির কথা তুলে ধরেন। মান্যবর রাষ্ট্রদূত পাতায়া ও তার পাশ্ববর্তী অঞ্চলে প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিভিন্ন কর্মকান্ডের জন্য তাঁদের ধন্যবাদ জানান। পাতায়ার ভারপ্রাপ্ত মেয়র তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশের ৫১ বছর পূর্তির এ আয়োজন পাতায়ায় করার জন্য মান্যবর রাষ্ট্রদূতকে ধন্যবাদ জানান। তিনি পাতায়ায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের পাতায়ার অর্থনীতিতে অবদান রাখার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।