ব্যাংককে ৫১তম স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালিত

ব্যাংকক, ২৬ মার্চ ২০২২

বাংলাদেশ দূতাবাস, ব্যাংকক প্রাঙ্গণে আজ ২৬ মার্চ শনিবার যথাযোগ্য মর্যাদায় ৫১ তম স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালন করা হয়। কোভিড-১৯ প্রেক্ষাপটে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি ও অনুশাসন মেনে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে দিবসের অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়। সকালে দূতাবাস প্রাঙ্গণে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিবসের কর্মসূচি শুরু করেন মান্যবর রাষ্ট্রদূত জনাব মোঃ আব্দুল হাই। এরপর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী শহীদদের আত্মার মাগফিরাত ও দেশ ও জাতির শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন বাংলাদেশ দূতাবাস, ব্যাংকক এর প্রথম সচিব (শ্রম) জনাব মোঃ ফাহাদ পারভেজ বসুনিয়া।

এরপর স্বাধীনতা জাতীয় দিবসে দূতাবাসের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন মান্যবর রাষ্ট্রদূত। স্বাধীনতা সংগ্রামে শহিদদের আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। ৫১তম স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও মাননীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কর্তৃক প্রদত্ত বাণীসমূহ পাঠ করে শোনান যথাক্রমে দূতাবাসের মিনিস্টার (কনস্যুলার) জনাব আহমদ তারেক সুমীন, মিনিস্টার (ইকনোমিক) জনাব সৈয়দ রাশেদুল হোসেন, প্রথম সচিব মিজ দয়াময়ী চক্রবর্ত্তী ও প্রথম সচিব (শ্রম) জনাব মোঃ ফাহাদ পারভেজ বসুনিয়া। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কাউন্সেলর ও দূতালয় প্রধান জনাব মোঃ মাসুমুর রহমান।

মান্যাবর রাষ্ট্রদূত জনাব মোঃ আব্দুল হাই তাঁর বক্তব্যের শুরুতেই স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। রাষ্ট্রদূত তাঁর বক্তব্যে ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন ভারত, সোভিয়েত ইউনিয়নসহ বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও কূটনীতিবিদদের অবদান শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে বাঙ্গালি জাতি হিসেবে যে ঐক্য সৃষ্টি হয়েছিল, যেখানে ধর্ম-বর্ণ  নির্বিশেষে সকলে একসাথে স্বাধীনতা সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ে, সেই ঐক্য ধরে রাখার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে দুতাবাসের উদ্যেগে থাইল্যান্ডের বহুল প্রচারিত দৈনিক ব্যাংকক পোস্ট একটি বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করে। বিশেষ এই ক্রোড়পত্রে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও মাননীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কর্তৃক প্রদত্ত বাণীসমূহ সন্নিবেশিত করা হয়।এছাড়া বাংলাদেশ ও থাইল্যন্ডের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সুবর্ণজয়ন্তীকে মূল থিম হিসেবে নিয়ে দুই দেশের ৫০ বছরের কূটনৈতিক অর্জনকে তুলে ধরে থাইল্যান্ডে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও বাংলাদেশে নিযুক্ত থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত কর্তৃক রচিত নিবন্ধ প্রকাশ করা হয়।

৫১তম স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে আগামী ২৭ ও ২৯ মার্চ ব্যাংককে  ও ৩০ মার্চ ও পাতায়ায় এবং ০৭ এপ্রিল কম্বোডিয়ায় অভ্যর্থনা অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে।

********************************